Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

” ভুয়ো উকিলের পরিচয় দিয়ে অবশেষে গ্রেফতার হলো প্রতারক মনসুর আলী।”

নিজস্ব ডেস্ক,এডিএইচ নিউজ,চাঁচোল,মালদাঃ

নিজেকে খোদ উকিলের পরিচয় দিয়ে সাদা-শার্ট ও কালো প্যান্ট পরে চাঁচল মহকুমা আদালতে এসে গ্রামের সাধারন মানুষকে মামলার ভয় দেখিয়ে হাজার হাজার টাকা প্রতারিত করেই চলেছিল সেই প্রতারক। কথায় আছে না দশ দিনের চোর একদিন ঠিক ধরা পড়বেই, আর ঠিকই এক্কেবারে সেটাই ঘটল।

মনসুর আলী(৪০) নামে সেই প্রতারক একেবারে হাতেনাতে ধরা পরলো চাঁচোল মহকুমা আদালতে। ঘটনাটি পুলিশ জানতে পেরে প্রতারক মনসুর আলীকে গ্রেপ্তার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায় যে, মনসুর আলী নামে সেই প্রতারক এলাকার বহু মানুষকে বিভিন্ন দিক দিয়ে প্রতারণা করে রেখেছে। গ্রামেরই একব্যক্তির (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) কাছে চাকরির নাম করে নগদ দুই লক্ষ সত্তর হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে। কিন্তু বারংবার বলা সত্ত্বেও সেই প্রতারক টাকা দিতে চেয়েও দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে সেই ব্যক্তি চাঁচোল মহকুমা আদালতে প্রতারক মনসুরের নামে একটি লিখিত মামলাও করেছে। পিতার সম্পত্তির ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে নিজের মামার উপর দুটি মিথ্যা মামলা করে হয়রানিরও অভিযোগ রয়েছে প্রতারকের বিরুদ্ধে । তাছাড়া এলাকার বিভিন্ন শিক্ষিত বেকার ছেলেদের কাছ থেকে চাকরির লোভ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে ও অভিযোগ সেই প্রতারকের বিরূদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায় যে সেই প্রতারককে নিয়ে গ্রামে কয়েকবার সালিশি সভা বসলেও চরিত্রের তার কোনো পরিবর্তন হয়নি‌।

স্থানীয় এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, গ্রামের লোক তো দূরের কথা তার নিজস্ব জামাইবাবুর কাছ থেকে চাকরির নাম করে তিন-চার লক্ষ টাকা প্রতারনা করে রেখেছে। যার ফলে তাঁর বোন বর্তমানে শশুর বাড়ী যেতে পারছেনা সেই প্রতারক ভায়ের জন্য।

তারপরেও আবার সেই প্রতারক নিজ বোনকে দিয়ে জামাইবাবুকেও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে সবরকম সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে বলে জানায় গ্রামবাসীরা। স্থানীয়দের কাছে আরও জানা যায় যে মনসুর আলী নামে সেই প্রতারকের এমন দুশ্চরিত্রের জন্য তাঁকে সমাজের বাইরে রাখা হয়েছে।শুধু তাই নয় একমাত্র টাকার লোভে পার্শ্ববর্তী গ্রামের অঞ্জনা ওরাও নামে এক আদিবাসী বিবাহিতা মহিলাকে বিয়ে করে। সেই আদিবাসী মহিলার স্বামীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে আজও এলাকায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ বলে জানা যায়।

অঞ্জনা ওরাও নামে মহিলার আত্বীয়দের দাবি তাঁর স্বামীর খুনের ঘটনায় প্রতারক মনসুরেরই হাত রয়েছে।
অঞ্জনা ছাড়াও তার আরও চারটি বিয়ে। একটি ছাড়া বাকিটি বিনা তালাকেই মামলার ভয় দেখিয়ে রেখেছে। কাউকে আবার বলেছে আমি ” একজন ভালোমানের উকিল হওয়ায় বিচারকের সাথেও আমার খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে।”

হরিশ্চন্দ্রপুরের একগৃহবধূর অভিযোগ,কয়েক মাস পূর্বে আমাদেরকে মনসুর আলী উকিল বলে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে দিনের পর দিন প্রতারনা করেছে। সেই প্রতারক আমাদের দুর্বল ভেবে সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছে। তাঁর ব্যবহার ও চরিত্র ভীষণ বাজে বলেও অভিযোগ সেই গৃহবধূর। তিনি আরও জানান যে, মামলার তারিখ না থাকলেও মিথ্যা কথা বলে আমাকে বেশ কয়েকবার ডেকেছে ও অযথা সময় নষ্ট করেছে। গৃহবধূর আরও অভিযোগ আমাকে প্রতিনিয়ত ভুল বুঝিয়ে আমার মেয়েকে দিয়ে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে নোংরা, জঘন্য মিথ্যা মামলা (POKSO ACT এ) জোরপূর্বক করিয়েছিল। যেন শশুর বাড়ী থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা যায়। সেই প্রতারকের দুশ্চরিত্র সামনে আসতেই আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরে আমার স্বামীও শশুর বাড়ীর লোকদের কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলি এবং সকলের কাছে ক্ষমা চায় এবং মিথ্যা মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য মহামান্য চাঁচল মহকুমা আদালতে আবেদন করেছি বলেও জানায় সেই গৃহবধূ।

পাশাপাশি সেই প্রতারকের গ্রেপ্তারে ভীষণ খুশি গৃহবধূ সহ তার পরিবার। কারণ সমাজে এধনের প্রতারকের জায়গা না থাকায় ভালো। কারণ এমন দুশ্চরিত্র প্রতারকের জন্য অনেক সংসার ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ নিজেরই প্রাণহানি ঘটিয়ে ফেলছে। তাছাড়া এলাকার সকলেই চায় মহামান্য আদালত যেন সমাজের কলঙ্কিত এই ধরনের প্রতারক কে জটিল থেকে জটিলতর শাস্তি দেয় কারণ এই সমস্ত প্রতারক দের জন্য কত মায়ের চোখের জল ঝরছে আবার কত ছোট ছোট শিশুর চোখের জল ঝরছে। সমাজে এইধরনের প্রতারক না থাকলে হয়ত সামান্য ভুলবোঝাবুঝি কে কেন্দ্র করে সংসার ভেঙে চুরমার হবেনা বলে আশঙ্কা গ্রামবাসীদের।

বিষয়টি নিয়ে একটি মানবাধিকার সংস্থার মালদা জেলা শাখায়‌ যোগাযোগ করে জানা যায়, উক্ত ঘটনাটি নিয়ে আইনি সাহায্য চেয়ে সেই গৃহবধূর স্বামী একটি লিখিত আবেদন জানান। সেই পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তর সম্পর্কে তার এলাকা থেকে দুর্নীতির অনেক তথ্যই পাওয়া গেছে। সেই সমস্ত বিষয় আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হবে এবং সেই অভিযুক্তর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া পক্স অ্যাক্ট এর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা মেয়েকে দিয়ে পিতার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাজিয়ে তৈরী করে ।

এই বিষয়ে চাঁচল মহকুমা আদালতের বার অ্যাসোসিয়েশনকে লিখিতভাবে জানাবো যেন তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় বলে জানান মালদা জেলা মানবাধিকার সংস্থার সভাপতি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!