Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

” ভুয়ো উকিল সেজে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ মনসুর আলী নামে এক ব্যক্তির উপর।”


নিজস্ব ডেস্ক,এডিএইচ নিউজ,সামসী,মালদাঃ

সাধারণ মানুষকে সমাজের প্রতিটি স্তরে কাজ হাসিল করতে গিয়ে দালালের হাতে পড়তে হয়।অনেক জায়গায় অফিসের বাইরে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে সাইনবোর্ড ও লেখা থাকে “দালাল হইতে সাবধান।”
তবুও দালালরা সমাজের সহজ সরল মানুষদের কোন না কোন উপায়ে প্রতারণা করে যাচ্ছে দিনের পর দিন।

সমাজে বিভিন্ন জন বিভিন্ন রূপে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করে থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রতারণার ধরনটা কিছুটা আলাদা। প্রথমে নিজেকে উকিল বলে পরিচয় দিয়ে মামলা জোগাড় করা তারপর মামলাকারীকে সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলে প্রলোভন দেওয়া এবং মামলাকারীর কাছে সমস্ত কথা জেনে অপরপক্ষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা টাকা আদায় করা প্রভৃতি। এরপর উভয়পক্ষকে ক্রমশ ভুল বুঝিয়ে একে অপরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে সংসার ভেঙে দেওয়া। ঠিক এমনটাই ঘটেছে হরিশ্চন্দ্রপুরের এক গৃহবধূ ও তাঁর স্বামীর সংসারে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মনসুর আলী নামে সেই প্রতারকের বাড়ি চাঁচল থানার শুক্রবারি এলাকার আনন্দগঞ্জ গ্রামে। পিতার নাম মহঃ ইশা। সে এলাকার অনেক মানুষকে বিভিন্ন ভাবে প্রতারণা করে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র গা ঢাকা দিয়ে থাকছে। গ্রামেরই প্রতারিত হওয়া এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায় যে, দীর্ঘদিন ধরে তাকে খোঁজাখুঁজি চলছে,বাড়িতেও থাকছেনা সে। পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক যুবক জানায়,সে একজন মিথ্যুক ,প্রতারক এবং দালাল ব্যক্তি। মেয়েদের বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে মেয়ের বাবা মায়ের বাড়ি থেকে দুই তিন লাখ টাকা পণ নিয়ে অকারণে তাঁকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে দুরে সরিয়ে দেয়। তারপরে আবার অন্য মেয়ের খোঁজ করতে থাকে। এইভাবে সে মিথ্যা কথা বলে তিন-চারটি মেয়েকে বিয়ে করে তাদের সাথে প্রতারনা করে রেখেছে। তার চতুর্থ বিয়ে হয় মালাহার এলাকায় রেলওয়েতে চাকুরীরত এক সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মেয়ের সাথে। আবার সে একজনকে তালাকও দিয়েছে। বাকিদের প্রাণে মারার ও মিথ্যা মামলা করে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে।

গত চার মাস পূর্বে হরিশ্চন্দ্রপুরের মর্জিনা খাতুন নামে এক গৃহবধূ সামান্য কিছু ভুল বুঝাবুঝি নিয়ে শ্বশুর বাড়ি থেকে সামসী এলাকার চোরখী গ্রামে বাবা মায়ের বাড়িতে চলে আসে। চোদ্দো বছরের সংসারে তাদের দুইটি সন্তান ও রয়েছে। একটি দশ বছরের অপরটি চার বছরের সন্তান। তাঁর পিতা মনজুর আলি ও মাতা তারাফুল বিবি এবং মহঃ মর্তুজা ও মাসেদুর আলম নামে দুই ভাই শ্রমিকের কাজে ভিন রাজ্যে থাকে।

ঘটনাক্রমে সেই গৃহবধূর সাথে প্রতারক মনসুর আলীর দেখা হয়ে যায়। তারপর তার সংসারের কথা জানতে চাই। সব কথা শুনে প্রতারক নিজ স্বার্থ পূরণের জন্য গৃহবধূকে বিভিন্নভাবে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকের বিরুদ্ধে ভুল বোঝাতে শুরু করে। সেই গৃহবধূকে দিয়ে চাঁচোল মহকুমা আদালতে ১২৫ নম্বর ধারা মতে একটি মামলাও করায়। তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে সব রকম সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে দিতে বলে এবং তাকে নিয়ে সংসার গড়ার ও কথা বলে। আবার মর্জিনা খাতুন একথাও ভাবে যে সে কোন ভুল করছে না তো ।

তারপর কিছুদিন পরেই নিজের ভুলের কথা বুঝতে পেরে তাঁর স্বামীকে ডেকে সব কথা খুলে বলে। ফলে তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়। পরেরদিন মর্জিনা খাতুন কে সাথে করে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাঁর স্বামী। তবে সে দু একদিন পর চলে যাবে বলে জানায়। এবং আদালতের মামলাটি প্রত্যাহার করতে বলে । কিন্তু প্রতারক মামলাটি না তুলে বরং তাদের কে আরও উল্টো পাল্টা কথা বলে প্রলোভন দেখিয়ে ভুল বুঝিয়ে রাখে। মামলার বিনিময়ে গৃহবধূ শ্বশুরবাড়ি থেকে এককালীন দশ লাখ টাকা এবং মাসিক ষোলো হাজার টাকা পাবে বলে মিথ্যা আশ্বাস দেয়।

অপরদিকে, গৃহবধুর স্বামীকে মামলার কথা জানিয়ে তার স্বামীর মনেও জায়গা তৈরির চেষ্টা করে সেই প্রতারক। স্বামীকে ও সেই গৃহবধুর সম্পর্কে অনেক ধরনের কথা বলে যেন তার মনে গৃহবধূ সম্পর্কে খারাপ ধারনা তৈরী হয়।

স্বামী কেও বলে তার গৃহবধূকে ছেড়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু তার স্বামী গৃহবধূকে কোন প্রকারেই ছাড়তে পারবে না বলে জানায়। কয়েকদিন পর তার স্বামীকে বারবার ফোন করে ডেকে বলে মীমাংসা করার জন্য। সেখানে গেলে প্রতারক পরিকল্পনা করে ফাঁকা ডেমির উপর সই করিয়ে নেই।

কয়েকদিন পরেই আবার মতামত পাল্টে দিয়ে জানায় যে সেই গৃহবধূ নাকি আর সম্পর্ক রাখতে চাইছে না। সে কথা শুনে গৃহবধূর সাথে দেখা করার জন্য ও সামনা সামনি কথা বলতে গেলেও প্রতারকের কথা মতো গৃহবধূ দেখা না করার জন্য ঘরে ঢুকে যায়। এমনকি প্রতিনিয়ত দুই ঘন্টা ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকলেও এক মুহূর্তের জন্য দরজা খোলেনি এতটাই ক্ষোভ ঢুকিয়ে দেয় তাদের মনে। ফলে গৃহবধূর স্বামী বাধ্য হয়ে দেখা না পেয়ে ফেরত যায়।

অপরদিকে তাদের এমন ব্যবহার করা উচিৎ হয়নি বলে স্বামীকেও উত্তেজিত করে সেই প্রতারক। চোদ্দ বছর সংসার করার পর যে কেউ এভাবে পাল্টে যেতে পারে সে কথা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না তার স্বামী। কিন্তু বাস্তবে তো সেটাই ঘটেছে। ছোট মেয়েটিকে সাথে নিয়ে গেলেও বড় মেয়েটি প্রথম থেকেই বাবার কাছে থাকতো।

কয়েক দিন পর প্রতারক ফোন করে বলে পনেরো লাখ টাকা দিতে হবে না হলে আবার ও একটি মিথ্যা মামলা করা হবে বলে ফোন করে বারবার হুমকি দেয়। কিন্তু গৃহবধূর স্বামী সে প্রতারককে পরিষ্কার জানিয়ে দেয় সে এক টাকাও দিতে পারবে না এবং তার কাছে থাকা বড় মেয়ে সমস্ত ঘটনা আদালতে বলে দিবে বলেও জানায় তাঁর স্বামী। কিন্তু তাহলে তো সত্যি মামলাটিতে হেরে যাবে বলে বুঝতে পেরে দু একদিন পরে সেই প্রতারক গৃহবধূ কে সাথে নিয়ে পিতার কাছে থাকা মেয়েটিকে ফোন করে ডেকে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে পালিয়ে আসে। তারপর বড় মেয়েটিকেও পিতার বিরুদ্ধে অমানবিক জঘন্য নোংরা কথা শেখাতে শুরু করে। মেয়েকে নিজের কাছে পেয়েই প্রতারক দুই মেয়েকে টাকার বিনিময়ে দেওয়া হবে বলে জানাই গৃহবধূর স্বামী কে।

এদিকে গৃহবধূ ও তার দুই মেয়েকে নিয়ে প্রতারক অবৈধ সংসার গড়তে শুরু করে দেয়।

অপরদিকে দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে হারিয়ে পিতা অ‌‍‌‍সহায় হয়ে একটি মানবাধিকার সং‍স্থার দ্বার‍স্থ হয়েছে। এতকিছু ঘটে যাওয়ার পরেও সেই গৃহবধূ ও তার দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার করতে ইচ্ছুক সেই ব্যক্তি।

এদিকে সংস্থার পক্ষ থেকে গৃহবধূর স্বামীর কাছে সমস্ত ঘটনা শুনে প্রতারক এর বিরুদ্ধেঅভিযোগ জানিয়ে সব রকম ভাবে আইনি সহায়তা করা হবে বলে জানান সংস্থার সভাপতি।
আবার প্রতারকের উকিল বলে পরিচয় দেওয়ার কথা চাঁচল বার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারী খাইরুল আনাম কে জানালে একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলে। অভিযোগটি পেলেই তার বিরুদ্ধে আইানুগ ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!